মানসিক চাপ ও করণীয়

মানসিক চাপ ও করণীয়

বর্তমান সময়ে দুশ্চিন্তা আমাদের নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে। আমরা যে মানসিক চাপের মধ্যে আছি সেটা আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারিনা। আর তাই মানসিক চাপের লক্ষণগুলো জেনে নেওয়া জরুরি:

#নিয়মিত মাথা ব্যাথা: মাঝে মধ্যে মাথা ব্যাথা হতেই পারে তবে যদি প্রতিদিন নিয়ম করে মাথা ব্যাথা হয় তবে বুঝবেন এটা স্বাভাবিক নয়। মানসিক চাপে অনেক সময় মাইগ্রেনের ব্যাথা থাকতে পারে অনেক দিন।

#ঘুমের ব্যাঘাত: দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকলে সাধারণত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তবে দীর্ঘদিন এ অবস্থায় থাকলে তা অসুস্থতা ডেকে আনে।

#শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা: হঠাৎ করে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া বা প্যানিক আট্যাক মানসিক চাপের অন্যতম লক্ষণ।

#বুকে ব্যাথা: অনেক সময় মানসিক চাপের কারণে হ্রদস্পন্দন বেড়ে গিয়ে বুকে ব্যাথা শুরু হতে পারে।

#কাশি: অনেকের লাগাতার কাশি ও মুখের ভেতর ঘা হতে পারে।

#বুক জ্বালা পোড়া ও হজমে সমস্যা: মানসিক চাপের ফলে আসিডিটি বেড়ে গিয়ে বুক জ্বালাপোড়া করতে পারে ।অনেকের আবার হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

#ত্বকের সমস্যা: মানসিক চাপের ফলে ব্রণসহ ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

এছাড়াও হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যাথা, পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, শরীরে ব্যাথা প্রভৃতিও মানসিক চাপের ফল।

করণীয় বিষয়:

এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক মানসিক চাপে করণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে:

# প্রিয়জনের সাথে আপনার দুশ্চিন্তাগুলো ভাগাভাগি করে নিতে পারেন। এতে সমাধান কিছু না মিললেও মানসিকভাবে কিছুটা হালকা হতে পারবেন।

#হাজার ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য একটু সময় বের করুন এবং সময়টা আপনি আপনার নিজের মত করে কাটান। সে সময়ে করতে পারেন কোন পছন্দের কাজ, দেখতে পারেন কোন প্রিয় অনুষ্ঠান, পড়তে পারেন কোন বই অথবা গল্প করে বা আড্ডা দিয়ে কাটাতে পারেন সময়টা।

#হাতে যখন অনেক কাজ জমে যায় তখন সহকর্মী বা পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিন।

#নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করুন। নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে যেমন রাখে শারীরিকভাবে সুস্থ তেমনি আপনাকে মানসিক ভাবেও রাখে প্রশান্ত।

#সপ্তাহে যে ছুটির দিনগুলো পান সেগুলো আলসেমি করে ঘরে বসে না থেকে বেড়িয়ে আসুন কাছাকাছি কোন জায়গা থেকে। লং-ড্রাইভ এ ও যেতে পারেন।

# সময় পেলেই ঢুকে পড়ুন শখের জগতে। নিজের শখকে প্রাধান্য দিন। ছবি আকা, শপিং করা, গান করা যা ভালো লাগে।

মানসিক চাপ তা যেকোন বয়সের মানুষের ই হতে পারে। এমনকি শিশুদের হোমওয়ার্ক হতে পারে তার মানসিক চাপের কারণ। তাই আপনার পাশের মানুষটির যত্ন নিন। তাকে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে সহায়তা করুন।